প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সম্মান আছে, স্বস্তি নেই: অস্তিত্ব রক্ষায় লড়ছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
উচ্চশিক্ষা ও সম্মানজনক পেশা থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ভেঙে পড়ায় সঞ্চয়ের জায়গা এখন দখল করছে ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ।সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারতে মধ্যবিত্তের স্থিতিশীল আয় ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের জীবনমানে। ‘ব্রেকপয়েন্ট: দ্য ক্রাইসিস অব দ্য মিডল ক্লাস অ্যান্ড ফিউচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, নীতিগত দুর্বলতা এবং আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো গভীর আর্থিক সংকটে পড়ছে।একই চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের জীবনমান এখন ঝুঁকির মুখে। আয় ও প্রবৃদ্ধির হার স্থির থাকলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে থাকায় অনেকেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার, যা মোট বেকারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। উপযুক্ত কর্মসংস্থান না পেয়ে অনেকেই কম বেতনের কাজ বা চুক্তিভিত্তিক পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, অটোমেশন ও প্রযুক্তির প্রভাবে সেবা খাতে নতুনদের জন্য সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।ঢাকার মিরপুরের তুষার ও সালমা দম্পতির মতো অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আগে সঞ্চয় করতে পারলেও এখন মাস শেষে ঋণ করতে বাধ্য হচ্ছে। বাড়িভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাদের সীমিত আয় আর তাল মেলাতে পারছে না। এই সংকট সামাল দিতে অনেক শিক্ষিত চাকরিজীবী মূল পেশার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো বাড়তি আয়ের পথ খুঁজছেন, তবুও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না।বিনিয়োগে স্থবিরতা ও দক্ষ জনবল তৈরির ঘাটতির ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক স্নাতক চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও তাদের বড় অংশই অনিশ্চিত আয়ের অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় অনেক তরুণ ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর পথ খুঁজছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষিত মধ্যবিত্তের এই আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর নীতিগত পরিবর্তন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল