প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে কী করণীয়
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বাড়ছে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শরীর তার স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারায়—ফলে দেখা দেয় হিটস্ট্রোক, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
হিটস্ট্রোক কী?হিটস্ট্রোক এমন একটি অবস্থা, যখন শরীর আর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারে না। সাধারণত শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু এই অবস্থায় ঘাম কার্যকর হয় না। অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরের তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি পৌঁছাতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
কী কারণে হয়?বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়—
দীর্ঘসময় রোদে বা গরম পরিবেশে থাকা
হঠাৎ ঠান্ডা স্থান থেকে অতিরিক্ত গরম পরিবেশে যাওয়া
গরমে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রম
প্রচুর ঘাম হওয়ার পরও পর্যাপ্ত পানি না পান করা
বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে এমন পোশাক পরা
লক্ষণগুলো কী?হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বর
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি
বমিভাব
ত্বক লাল ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
মানসিক অবস্থার অবনতি
প্রাথমিক করণীয়হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত কাউকে দেখলে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে—
তাকে রোদ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা জায়গায় নিন
ফ্যান বা কুলারের সামনে রাখুন
ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন বা গোসল করান
মাথা, ঘাড়, বগল ও কোমরে ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাক দিন
দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন
কীভাবে এড়াবেন?চিকিৎসকরা হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন—
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন
হালকা, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন
বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার কম খান
কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন
ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে তাপপ্রবাহজনিত এই নীরব ঘাতক থেকে জীবন রক্ষা করতে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল