প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ন্যাটোতে গৃহযুদ্ধের সুর! স্পেনকে মার্কিন হুমকির প্রতিবাদে প্রতিরোধের ডাক
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট নিরসনে সাইপ্রাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতারা যখন জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, ঠিক তখনই পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পেন্টাগনের ওই মেইলে ন্যাটো থেকে স্পেনকে বহিষ্কারের প্রচ্ছন্ন হুমকির বিষয়টি সামনে আসায় ইইউ নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের এই তিক্ত সম্পর্ক ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।ঘটনার সূত্রপাত রয়টার্সের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে, যেখানে পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া কিছু অভ্যন্তরীণ ইমেইল প্রকাশ করা হয়। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে সরাসরি সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ন্যাটো চুক্তিতে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের সরাসরি কোনো বিধান নেই এবং যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তবুও ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সাইপ্রাস সম্মেলনে পৌঁছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ন্যাটোর প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে এবং এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে স্পেনের সমর্থনে ইউরোপের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলো বেশ জোরালো অবস্থান নিয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, স্পেন ন্যাটোর অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সবসময় তা-ই থাকবে। ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে ন্যাটোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে ভূমিকা রাখছে, তা আমেরিকার স্বার্থকেও রক্ষা করছে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন। জার্মানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে পরিবর্তনের কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এসেছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কাছ থেকে। ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের এই উত্তেজনাকে নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে ইউরোপের জনমত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। এমনকি এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এখন ওয়াশিংটনের এমন একপাক্ষিক অবস্থানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন। মিত্র দেশগুলোর এমন প্রতিরোধের মুখে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ এবং আটলান্টিক পাড়ের নিরাপত্তা বলয় এখন এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল