প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা: হাবলের চেয়ে ১০০ গুণ শক্তিশালী টেলিস্কোপ ‘রোমান’ উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ||
মহাকাশ পর্যবেক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চলতি বছরের শেষভাগেই উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বিশেষ মানমন্দির ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। হাবল স্পেস টেলিস্কোপের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এই টেলিস্কোপটির দেখার পরিধি হাবলের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বেশি বিস্তৃত। নাসা জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে মহাকাশে পাড়ি জমাবে এই শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি। তবে কোনো কারণে বিলম্ব হলে এটি ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে অবশ্যই উৎক্ষেপণ করা হবে।২০১৬ সালে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং হাবল টেলিস্কোপের ‘জননী’ হিসেবে খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের সম্মানে এই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়। এর আগে এটি ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে টেলিস্কোপ’ নামে পরিচিত ছিল। যদিও এর আয়না বা মিররের আকৃতি হাবল টেলিস্কোপের সমান, কিন্তু এর উন্নত প্রযুক্তি আকাশের অনেক বড় অংশকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের মতে, হাবল বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে জুম করে বিস্তারিত দেখাতে পারলেও, রোমান টেলিস্কোপটি নিজে থেকেই মহাকাশের বিশাল এলাকাজুড়ে লুকিয়ে থাকা বিরল বস্তুগুলো খুঁজে বের করবে। এটি মহাকাশের এমন অনেক অজানা রহস্য আমাদের সামনে নিয়ে আসবে যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরে মহাকাশের এক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হবে এই টেলিস্কোপকে। গবেষণার জন্য এটি মূলত দুটি প্রধান প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করবে। প্রথমটি হলো ৩০০ দশমিক ৮ মেগাপিক্সেলের একটি শক্তিশালী ক্যামেরা, যা দৃশ্যমান আলো থেকে শুরু করে নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো পর্যন্ত অত্যন্ত নিখুঁত ছবি তুলতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো ‘হাই-কন্ট্রাস্ট করোনাগ্রাফ’, যা নক্ষত্রের তীব্র আলোকে আড়াল করে তার পাশে থাকা ছোট ছোট গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটগুলোকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য কোনো নক্ষত্রমণ্ডলীকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া গ্রহগুলোর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য জানা সহজ হবে।‘রোমান’ মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ‘ডার্ক এনার্জি’ এবং ‘ডার্ক ম্যাটার’ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। উল্লেখ্য যে, মহাবিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশই ডার্ক এনার্জি দিয়ে গঠিত হলেও বিজ্ঞানীদের কাছে এর স্বরূপ এখনও প্রায় অজানা। এছাড়া মহাজাগতিক বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের সমাধান এবং নতুন নতুন গ্রহের সন্ধান দিতে এই টেলিস্কোপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মহাকাশ গবেষণার এই নতুন কাণ্ডারি কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্যই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশের আরও অনেক চমৎকার ও ঝকঝকে ছবি উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল