প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইতিহাস গড়ল ম্যানসিটি টানা চতুর্থবার ফাইনালে গার্দিওলার শিষ্যরা!
স্পোর্টস ডেস্ক ||
লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সাউদাম্পটনকে হারিয়ে এফএ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। নাটকীয়তায় ঠাসা এই সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চারবার এফএ কাপের ফাইনালে ওঠার অভাবনীয় রেকর্ড এখন সিটিজেনদের দখলে।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ইঙ্গিত দিলেও শুরুর চমকটা ছিল সাউদাম্পটনের। ১২ মিনিটে লিও সিয়েঞ্জা বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতলেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় দুই দলই সাবধানী ফুটবল খেলেছে, যেখানে সাউদাম্পটনের গোলরক্ষক ড্যানিয়েল পেরেত্জের একটি দুর্দান্ত সেভ ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়নি।তবে বিরতির পর মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একের পর এক আক্রমণে সাউদাম্পটনের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে সিটি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব এবং ভাগ্যের ফেরে গোল আসছিল না। উল্টো ম্যাচের ৭৯ মিনিটে পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে গোল করে বসেন ফিন এজাজ। তার দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য শটে লিড নেয় সাউদাম্পটন। হারের শঙ্কায় যখন সিটি সমর্থকরা প্রমাদ গুনছিলেন, ঠিক তখনই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় গার্দিওলার দল।পিছিয়ে পড়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় জেরেমি ডকু সিটিকে সমতায় ফেরান। তার নেওয়া শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে স্বস্তি ফেরে ব্লু শিবিরে। সমতায় ফিরে ম্যানসিটি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ৮৭ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের অনেকটা দূর থেকে নিকো গঞ্জালেসের নেওয়া এক বুলেট গতির শট সাউদাম্পটনের জাল কাঁপিয়ে দিলে জয় নিশ্চিত হয় সিটির।পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ছিল ম্যানচেস্টার সিটির। তাদের নেওয়া ২৬টি শটের বিপরীতে সাউদাম্পটন নিতে পেরেছে মাত্র ৪টি। টানা চতুর্থবারের মতো ফাইনালের টিকিট হাতে পাওয়া এই অপ্রতিরোধ্য ম্যানসিটি এখন আরও একটি শিরোপা জয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গার্দিওলার এই দলটির এমন ধারাবাহিকতা ইংলিশ ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল