প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
কম্পিউটার হার্ডওয়্যারে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব বিনিয়োগে নতুন আশা দেখাচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের
প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ
মানুষের নাগালে প্রযুক্তিপণ্য পৌঁছে দিতে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ
আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ
কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। বর্তমানে দেশে
মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ কম্পিউটার
ব্যবহার করছেন, যার অন্যতম প্রধান
কারণ হিসেবে উচ্চমূল্যকে দায়ী করা হচ্ছে।
বিসিএস-এর মতে, একটি
মানসম্মত কম্পিউটারের দাম এখন ৬০
থেকে ৬৫ হাজার টাকার
ঘরে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের
ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাই কম্পিউটারকে নিছক
বিলাসদ্রব্য নয়, বরং অপরিহার্য
‘শিক্ষাসামগ্রী’ হিসেবে বিবেচনা করে এর যন্ত্রাংশের
শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে
আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিএসসহ আটটি ব্যবসায়ী সংগঠন
তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে। বিসিএস
সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম
আলোচনায় উল্লেখ করেন, বর্তমানে মনিটর আমদানিতে ৪০ শতাংশ এবং
এসএসডির মতো জরুরি যন্ত্রাংশে
৬০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক দিতে
হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই শুল্কহার
কমানো এখন সময়ের দাবি।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান
খান এসব প্রস্তাব বিবেচনার
আশ্বাস দিলেও অতীতে দেওয়া শুল্ক সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিশেষ করে স্কুলগুলোতে তৈরি
করা ল্যাবগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে তিনি কিছুটা
সংশয় প্রকাশ করেন।
একই
সংলাপে নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন
এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনার
বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। উইমেন এন্টারপ্রেনিউর
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (উই)
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তিন থেকে
পাঁচ বছরের কর অবকাশ ও
সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানায়।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান নারীদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাট
হারের প্রস্তাব দেন, যা কার্যকর
হলে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জটিলতা
থেকে মুক্তি মিলবে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড
ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) উচ্চবিত্তের ওপর করের বোঝা
না বাড়িয়ে বরং করের আওতা
বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান অপ্রাতিষ্ঠানিক
খাতকে করের আওতায় আনতে
নামমাত্র কর আরোপের প্রস্তাব
দেন, যাতে জাতীয় রাজস্বে
ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আলোচনায়
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এবং বাংলাদেশ টাওয়ারকো
অ্যাসোসিয়েশনও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বাড়াতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের
দাবি জানায়। বিশেষ করে অপটিক্যাল ফাইবার
আমদানিতে থাকা ৬৫ শতাংশ
শুল্ক ইন্টারনেট সেবার প্রসারে বড় বাধা বলে
তারা উল্লেখ করেন। রাজশাহী, বরিশাল ও জয়পুরহাট জেলা
চেম্বারের প্রতিনিধিরাও আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কর ছাড়ের প্রস্তাব
দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ
করছে এবং আসন্ন বাজেটে
জনবান্ধব ও বাস্তবভিত্তিক কর
নীতি প্রণয়নের চেষ্টা থাকবে।
সূত্র:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রাক-বাজেট সংলাপ এবং বিসিএস ও
এমসিসিআই-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল