প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
উত্তর কোরিয়ার বিধ্বংসী সমরাস্ত্রের মহড়া সিউলের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচিকে বর্তমান বিশ্বের অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য একক ও বৃহত্তম হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি বিষয়ক এক সম্মেলনে এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়ং ইয়েন-দু। ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়ং তার বক্তব্যে পিয়ংইয়ংয়ের এনপিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশকে আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন যে, উত্তর কোরিয়ার এই একগুঁয়েমি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।দক্ষিণ কোরীয় এই কূটনীতিক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, উত্তর কোরিয়াই একমাত্র দেশ যারা এনপিটি কাঠামোর সুবিধা গ্রহণের পর সেখান থেকে সরে গিয়ে প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নে লিপ্ত রয়েছে। তিনি পিয়ংইয়ংকে এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানান যে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর ভেতরেই সম্ভব। এই উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিউল। জিয়ং ইয়েন-দু মস্কোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার এই সামরিক ঘনিষ্ঠতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোকে সরাসরি খাটো করছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে রাশিয়াকে অবিলম্বে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়।উল্লেখ্য, ১৯৭০ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তিটি বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে প্রধান আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে কাজ করছে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই চুক্তির অগ্রগতি মূল্যায়নে সম্মেলন আয়োজিত হয়, যেখানে এবারের সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণকে স্পষ্ট করেছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অভিলাষ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে এশীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ সামরিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই জোরালো প্রতিবাদ মূলত পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যকার প্রতিরক্ষা জোটের বিপরীতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।তথ্যের উৎস: আনাদোলু এজেন্সি এবং ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল