প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
৪ গ্রাম ইউরেনিয়ামেই মিলবে ৪১৭ লিটার ডিজেলের শক্তি বদলে যাবে দেশের বিদ্যুৎ খাত
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সক্ষমতা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা দেশের জ্বালানি খাতের প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিচ্ছে। পারমাণবিক শক্তির এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সক্ষম, ঠিক একই পরিমাণ শক্তি পেতে পোড়াতে হবে ৪১৭ লিটার ডিজেল। শক্তির এই বিশাল পার্থক্যই বলে দিচ্ছে কেন রূপপুর প্রকল্পকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে দেখা হচ্ছে।পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই মেগা প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে উচ্চ প্রযুক্তির ইউরেনিয়াম-২৩৫। সাধারণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কয়লা বা লাখ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল পোড়াতে হয়, সেখানে পারমাণবিক চুল্লিতে সামান্য পরিমাণ জ্বালানি দিয়েই বছরের পর বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানির এই বিপুল ঘনত্বের কারণেই এটি বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং শক্তিশালী শক্তির উৎস হিসেবে স্বীকৃত।এই অভাবনীয় সক্ষমতা কেবল গাণিতিক হিসাব নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। আমদানিকৃত ব্যয়বহুল খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এই প্রকল্প একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাখবে অনন্য ভূমিকা। যেহেতু ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম ৪১৭ লিটার ডিজেলের কাজ একাই করে দিচ্ছে, সেহেতু বিশাল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ থেকেও মুক্তি পাবে দেশ।
ইতিমধ্যেই রূপপুরে পৌঁছেছে এই মহামূল্যবান জ্বালানির প্রথম চালান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ক্ষণগণনা এখন তুঙ্গে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার এই নতুন সমীকরণকে পুঁজি করেই উন্নয়নের পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল