প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তলানিতে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে মাস্টারপ্ল্যান বড় বিনিয়োগের ডাক দিলেন অর্থমন্ত্রী
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে বড় অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বুধবার সকালে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তলানিতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে টেনে তুলতেই সরকার এবারের বাজেটে বড় অংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।বক্তব্যের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার কারণে কেবল জ্বালানি খাতেই সরকারকে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। অর্থনীতির এই নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংককেও বাস্তব পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশের অন্তত দুই বছরের একটি স্বস্তিদায়ক সময় বা ‘কুশন’ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।বিগত দিনের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ব্যাংকিং খাত এবং শেয়ার বাজারকে প্রায় ধসে যাওয়া অবস্থায় পেয়েছে। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগের পথে যত বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোকেও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কর ও জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি করা না গেলে দেশের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতি পাবে না। সংকটময় এই সময়ে ব্যবসায়ী ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মূলত বড় বাজেট এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়িয়েই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব বলে সভার আলোচনায় উঠে আসে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল