প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
পেন্টাগনের স্বীকারোক্তি, ইরান যুদ্ধে বিপুল ব্যয়ের মুখে মার্কিন অর্থনীতি
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে গত দুই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের একটি পাহাড়সম হিসাব সামনে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।জুলস হার্স্ট জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের পেছনে। যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অস্ত্রের বিকল্প বা নতুন সরঞ্জাম পাঠাতেও বড় অঙ্কের তহবিল ব্যয় করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা থাকলেও পেন্টাগনের এই স্বীকারোক্তি সেই অস্পষ্টতা দূর করল।বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবছরের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে পর্যালোচনায় ব্যস্ত। এমন সময়ে ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের এই তথ্য প্রকাশ পাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ পেন্টাগনের এই স্বচ্ছতার প্রশংসা করে বলেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংখ্যাটি জানতে চাইছিলেন কিন্তু ইতিপূর্বে কেউ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। টানা ৩৯ দিন দেশটিতে ব্যাপক অভিযান চালানোর পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে সরাসরি আক্রমণ বন্ধ থাকলেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে জিইয়ে রেখেছে।তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল