প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
আইনজীবী মোহসিন রশীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে রিজওয়ানা হাসান
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলের নিয়মিত আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে রিজওয়ানা হাসানকে একজন অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। মোহসিন রশীদ তাঁর বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।আইনজীবী মোহসিন রশীদের অভিযোগের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রাষ্ট্রপতির অবমাননা ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা। তিনি দাবি করেন, ব্রাসেলস সফরকালে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়া বা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ছাড়াই কেবল টেলিফোনে এমন নির্দেশনা দেওয়াকে তিনি চরম অসাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ তোলেন যে, রিজওয়ানা হাসান প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে নিজে সেখানে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা আইনি ও নৈতিক—উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বর্তমান সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানান, তিনি ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। এই রিটের মাধ্যমে পুরো সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির তদন্তে একটি স্বাধীন ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’ গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করছেন যে, খুব দ্রুতই এই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, ব্যাংক লুটপাট ও সর্বব্যাপী দুর্নীতির এই প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগীয় তদন্তই এখন একমাত্র পথ। এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রশাসনের তথাকথিত অনিয়মগুলো জনসমক্ষে আসবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল