প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কত? বড় চমক রেখে কমিশনের সুপারিশ
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন সংক্রান্ত নবগঠিত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত এই কমিশন বেতন বৈষম্য কমাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। এবারের সুপারিশে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ব্যবধান। ১৯৭৩ সালের প্রথম পে স্কেলে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪ এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে ছিল ১:৯.৪। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বর্তমানে সব মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা বেতন-ভাতা পেলেও নতুন স্কেলে তা বেড়ে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে। তবে সমতা বিধানের স্বার্থে উচ্চতর গ্রেডগুলোতে ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রচলিত ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন স্কেলের সাথে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ শেষে সরকারের শীর্ষ মহলের সবুজ সংকেত পেলেই এই পরিবর্তনটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল