প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
তেল আমদানিতে দৈনিক ১৬৫ কোটি টাকা লোকসান হিমশিম খাচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও আকাশচুম্বী দাম আর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনৈতিক অস্থিরতায় চরম বিপাকে পড়েছে সরকার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে তেলের বাজার এখন লাগামহীন। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে জনমনে স্বস্তি দিতে মে মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার যদিও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারকে বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।পরিসংখ্যান বলছে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ডিজেলের দাম এতটাই চড়া যে আমদানি শুল্ক ছাড়াই প্রতি লিটারের ক্রয়মূল্য পড়ছে ২০৭ টাকার বেশি। এর ওপর যুক্ত হয় ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক। অথচ দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১৫ টাকায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সাম্প্রতিক এক লেনদেন থেকে জানা যায় একটি ৩৩ হাজার ৩০০ টনের ডিজেল কার্গোর জন্য সরকারকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৭৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো মাত্র দুই মাস আগেও সমপরিমাণ তেলের জন্য বিল দিতে হতো ৩ কোটি ডলারের কম। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তুলনায় জ্বালানির পেছনে এখন দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের তথ্যমতে আন্তর্জাতিক বাজারে এই উচ্চমূল্যের কারণে তেল বিক্রি করে সরকারকে প্রতিদিন গড়ে ১৬৫ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। শুধু এপ্রিল মাসেই এই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী জুন পর্যন্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ডিজেল অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। অকটেন ও পেট্রোল নিয়ে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সংকটের মূলে রয়েছে ডিজেল কারণ দেশে বছরে মোট আমদানিকৃত জ্বালানির সিংহভাগই এই পরিশোধিত ডিজেল।বর্তমানে বিপিসি তাদের আগের জমানো লভ্যাংশ দিয়ে তেলের এই অস্বাভাবিক দাম পরিশোধ করছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হলে অর্থের জোগান নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ভর্তুকির জন্য বিশেষ বরাদ্দের আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য জ্বালানি খাতের এই সংকট ও আর্থিক চাপ সহজে কাটবে না।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল