প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
মে দিবস ২০২৬ অধিকার ও বঞ্চনার লড়াইয়ে শ্রমিকের ৫৬ বছর
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
আজ
পহেলা মে মহান মে
দিবস। দীর্ঘ দেড় শতাব্দীরও বেশি
সময় আগে শিকাগোর হে
মার্কেটে শ্রমিকদের রক্তে ভেজা আন্দোলনের স্মরণে
বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে
৫৬ বছরে পদার্পণ করলেও
শ্রমিকের অধিকার ও প্রাপ্তির খতিয়ান
আজও অমীমাংসিত। সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে
দেশের অর্থনীতি ঈর্ষণীয় উচ্চতায় পৌঁছালেও এই অগ্রযাত্রার মূল
কারিগর শ্রমিকরা আজও নানামুখী বঞ্চনার
শিকার।
নীতিনির্ধারকরা
বৈশ্বিক দরবারে সস্তা শ্রমকে গর্বের সঙ্গে প্রচার করলেও দেশের মোট ৯৬টি খাতে
এখনো কোনো ন্যূনতম মজুরি
নির্ধারিত হয়নি。 ১৪২টি খাতের
মধ্যে মাত্র ৪৬টি মজুরি বোর্ডের
আওতায় থাকলেও অনেক খাতে গত
১০ বছরে কোনো মজুরি
সমন্বয় করা হয়নি。 শ্রমিক
নেতাদের অভিযোগ স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি
সময় পার হলেও জাতীয়
মজুরি কমিশন গঠন করা হয়নি।
বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি যেখানে
৮.৭১ শতাংশ সেখানে
মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮.০৯ শতাংশ। অর্থাৎ
আয়ের গতির চেয়ে বাজারমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি অনেক বেশি যার
ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ক্রমাগত
দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে
দেশে আরও ১২ লাখ
মানুষ দরিদ্র হতে পারে যাদের
বড় অংশই শ্রমিক শ্রেণি।
পরিসংখ্যান
বলছে গত এক দশকে
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আট হাজারেরও বেশি
শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন যাদের অধিকাংশই পাননি যথাযথ ক্ষতিপূরণ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড.
এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন জনশক্তিকে
দক্ষ সম্পদে রূপান্তর করতে না পারা
আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি
বছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ
শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও নিয়মিত কর্মসংস্থান হচ্ছে মাত্র ৬ লাখের যা
শ্রমিকদের জন্য এক অনিশ্চিত
ভবিষ্যৎ তৈরি করছে।
চলমান
ইরান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক
অস্থিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি
হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএলওর পূর্বাভাস
অনুযায়ী ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির দ্বিমুখী চাপে শ্রমিকদের পরিস্থিতি
আগামীতে আরও শোচনীয় হতে
পারে। দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী
ব্যক্তি যখন জাতীয় আয়ের
৪৪ শতাংশ ভোগ করছেন তখন
অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড শ্রমিকরা
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আজও রাজপথে সংগ্রাম
করছেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৬ বছরের এই
যাত্রায় শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম হলেও তাদের জীবনমানের
উন্নয়ন এখনো তাত্ত্বিক আলোচনার
মাঝেই সীমাবদ্ধ। শ্রমবান্ধব উদ্যোগের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান
বৈষম্য দূর করতে না
পারলে অর্থনীতির এই সমৃদ্ধি টেকসই
হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ
করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল