প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘ইকোনমিক ব্ল্যাকআউট!
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস উপলক্ষে এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদী কর্মসূচির সাক্ষী হলো পুরো যুক্তরাষ্ট্র। 'মে ডে স্ট্রং' জোটের আহ্বানে শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হয়েছে ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ বা ইকোনমিক ব্ল্যাকআউট। ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি স্থানে হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কেনাকাটা বর্জনের মাধ্যমে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর রাজপথ এদিন ছিল বিক্ষোভকারীদের দখলে।সবচেয়ে উত্তাল পরিস্থিতি দেখা যায় নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে। সেখানে ‘সানরাইজ মুভমেন্ট’-এর তরুণ বিক্ষোভকারীরা নিজেদের শিকল দিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান ফটকের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ভবনের সব কটি বহির্গমন পথ আটকে তারা অবস্থান নিলে এক ঘণ্টা পর পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয় এবং অনেককে গ্রেপ্তার করে। এরপরও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ধনকুবেরদের ওপর কর আরোপের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। নিউইয়র্কের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরগুলোতেও এই আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল শ্রমিকের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং অভিবাসন দপ্তর বা আইসিই-এর সঙ্গে সরকারি ও করপোরেট চুক্তি বাতিল করা।এই আন্দোলনে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শামিল হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভকারীরা একটি হোটেলের লবি দখল করে নেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে একটি সেতু অবরোধ করার সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারের মে দিবসের বিশেষত্ব ছিল বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন আন্দোলনগুলোর এককাতারে চলে আসা। আইসিই বিলুপ্তি, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার এবং ধনীদের ওপর উচ্চ হারের কর আরোপের দাবিতে সব সংগঠন এখন একক প্ল্যাটফর্মে কথা বলছে।শিকাগোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাজনের একটি গুদামের দিকে পদযাত্রা করেন, যেখানে প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমাজন প্রধান জেফ বেজোসের বিশাল প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। টেনেসির মেম্ফিসে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় অন্তত ১৫টি স্কুল জনশিক্ষার তহবিলের দাবিতে শিক্ষকদের ছুটি দিয়ে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত প্রতিটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী লিয়া গ্রিনবার্গ এই ব্ল্যাকআউট কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের শক্তির পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি একটি বৃহত্তর অসহযোগ আন্দোলনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠক সংশয় কুকুলা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমজনতার শ্রম এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই পুরো ব্যবস্থা সচল থাকে; সাধারণ মানুষ কাজ বন্ধ করে দিলে ধনিক শ্রেণির মুনাফাও বন্ধ হয়ে যাবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে অনেক জায়গায় নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা পাঁচ দিনের টানা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।তথ্যসূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল