প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
ইরানের গবেষণা ইউনিটে মার্কিন বাংকার বাস্টার, পেন্টাগনের কপালে ভাঁজ
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ভূখণ্ডে এসে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এখন তেহরানের জন্য নতুন এক সামরিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে স্রেফ যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষ হিসেবে না দেখে বরং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত ও দুর্লভ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি অনুযায়ী, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি হরমোজগান প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত উচ্চপ্রযুক্তির এই মরণাস্ত্রগুলো বর্তমানে কারিগরি ও গবেষণা ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে সেগুলোর 'রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং' বা ব্যবচ্ছেদ ও পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিনীদের জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার বোমা। প্রায় ১৩ হাজার কেজি ওজনের এই দানবীয় বোমাটি মাটির প্রায় ২০০ ফুট নিচে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বিশ্বের অত্যন্ত দুর্ভেদ্য সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের জন্য পরিচিত।ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক এই পুরো ঘটনাকে পশ্চিমা শক্তির জন্য একটি বড় ধরনের 'নিরাপত্তা কেলেঙ্কারি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্র এখন ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি উন্মুক্ত গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে। অবিস্ফোরিত এই গোলাবারুদগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গোপন ও বিপজ্জনক প্রযুক্তিগুলো সৃজনশীলভাবে নকল করার এক মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে ইরান। অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষকও এখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, ইরান যদি এই উন্নত অস্ত্রগুলোর সফটওয়্যার কোড বা যান্ত্রিক রহস্য উন্মোচন করতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। মূলত কয়েক দশকের কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি আয়ত্ত করা এখন ইরানের জন্য একটি বাধ্যতামূলক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এর আগেও তারা মার্কিন হক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০১১ সালে আরকিউ-১৭০ ড্রোনের সফল অনুকরণ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।এই সামরিক অগ্রগতির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও এখন ইরানি বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কট্টরপন্থি পত্রিকা কায়হানের সম্পাদক শরিয়তমাদারি পরামর্শ দিয়েছেন যে, ইরান এই প্রযুক্তিগত অর্জনগুলো চীন ও রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গেও ভাগ করে নিতে পারে। তার মতে, যুদ্ধের ময়দানে টমাহক ও এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা এমকিউ-৯ ড্রোনের মতো আধুনিক সমরাস্ত্রগুলোর ব্যর্থ হওয়া ইরানের জন্য শাপে বর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপকরাও একে জনগণের কাছে একটি বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, এই অস্ত্রগুলো অদূর ভবিষ্যতে নতুন রূপে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হবে। তেহরান সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এহসান খারামিদ বিষয়টিকে কেবল একটি সংবাদ নয়, বরং 'বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের' সূচনা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে গোপন স্তরগুলো উন্মোচন করে দেবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতির ফলে ওয়াশিংটনকে তাদের অস্ত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে চরম সতর্ক হতে বাধ্য হবে তারা।মূল সূত্র: বিবিসি বাংলা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল