প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
হরমুজ সংকটে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক চাল, ইরানকে কোণঠাসা করে বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নজর পেন্টাগনের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ জব্দ এবং পণ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিকে ‘খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন যে, চলমান অবরোধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি পণ্য ও তেল জব্দ করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমরা তাদের পণ্য ও তেল নিয়েছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। বিষয়টিকে জলদস্যুতার মতো মনে হতে পারে, তবে আমরা এখানে কোনো খেলায় নামিনি।"ইরানের ওপর এই কঠোর অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, তেহরান দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং এক পর্যায়ে এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তিনি জানান, ইরান যখন এই পথ বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন তার প্রশাসনও পালটা হিসেবে তাদের ওপর একই ধরনের অবরোধ আরোপ করেছে। ইরানের সঙ্গে বর্তমান পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প কিছুটা অনীহা প্রকাশ করে বলেন যে, কোনো চুক্তিতে না যাওয়াই সম্ভবত ভালো হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান অস্থিরতা দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া সম্ভব নয়।উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয় এবং ইসলামাবাদে আলোচনা চললেও কোনো স্থায়ী সমঝোতা আসেনি। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি নৌ চলাচলের ওপর কার্যকর নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।মূল সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল