প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
ম্যারাডোনার মৃত্যু কি অবহেলা নাকি পরিকল্পিত আদালতে এবার বেরিয়ে এল বিস্ফোরক তথ্য!
স্পোর্টস ডেস্ক ||
আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য এবং আইনি লড়াই এখনো থামেনি। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে ফুটবল বিশ্বের এই মহানায়কের প্রস্থান ঘটেছিল, যার কিছুকাল আগেই তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে ম্যারাডোনার এই আকস্মিক মৃত্যু কি কেবলই শারীরিক অসুস্থতা নাকি চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি ছিল, সেই অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বুয়েনস আইরেসের একটি আদালত। বর্তমানে অভিযুক্ত সাত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে।গত পরশু মামলার শুনানিতে ম্যারাডোনার চিকিৎসা ও মানসিক অবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য তুলে ধরেন তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ। আদালতে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, কিংবদন্তি এই ফুটবলার দীর্ঘকাল ধরে কোকেন ও অ্যালকোহলে আসক্তির পাশাপাশি 'বাইপোলার ডিজঅর্ডার' এবং 'নার্সিসিজম' নামক দুটি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বাইপোলার ডিজঅর্ডার মূলত এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষের আবেগ ও মানসিক অবস্থার দ্রুত বিপরীতমুখী পরিবর্তন ঘটে; অন্যদিকে নার্সিসিজম হলো সর্বদা নিজের প্রতি অত্যধিক মুগ্ধ থাকার এক বিশেষ প্রবণতা। দিয়াজের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ প্রয়োগের অভিযোগ থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করে আদালতকে জানান যে, ফুটবল জাদু দিয়ে পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করার ক্ষমতা থাকলেও ব্যক্তিজীবনে ম্যারাডোনা ছিলেন অত্যন্ত ভঙ্গুর। তার ভাষায়, “তিনি একটি দেশকে হাঁটু গেঁড়ে বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন, কিন্তু তাকে মাটিতে নামিয়ে আনার জন্য এক গ্লাস অ্যালকোহলই যথেষ্ট ছিল”।এই মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যা ম্যারাডোনা ভক্তদের মনে কষ্টের রেখা তৈরি করেছে। মনোবিদ দিয়াজের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা তার পুরনো আসক্তি কাটিয়ে জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। এমনকি মৃত্যুর ঠিক আগের টানা ২৩ দিন তিনি কোনো প্রকার মাদক গ্রহণ করেননি। ম্যারাডোনার মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকার শেষ দিনগুলো কেন সঠিক চিকিৎসা ও তদারকির অভাবে কাটল, সেই রহস্য উদঘাটনেই এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীরা। ১১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং চিকিৎসকদের এমন সব চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যারাডোনা হত্যার বিচারে কী রায় আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল