প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত, আকাশছোঁয়া হতে পারে নিত্যপণ্যের দাম চরম উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এখন সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে। একই চিত্র দেখা গেছে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটেও, সেখানে দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শক্তিশালী ডলারের প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুটি বিনিয়োগকারীদের কাছে কিছুটা আকর্ষণ হারিয়েছে।টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি বিশেষজ্ঞ বার্ট মেলেক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাজারকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির মুখে ইরানের পাল্টা হামলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল বন্দরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়, যার ফলে এর বৈশ্বিক চাহিদা ও কেনাবেচা কমে আসে।সংঘাতের এই আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখবে। বার্কলেসের মতো শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিমালায় কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে ১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।স্বর্ণের পাশাপাশি পতন দেখা গেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৭২ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রভাব খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দেশের বাজারেও যে কোনো সময় স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সবশেষ দেশে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ ক্রেতারা এখন দাম কমার অপেক্ষায় রয়েছেন।সূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল