প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ডিজিটাল ডাকাতদের রুখতে হার্ডলাইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক!
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
বর্তমানে দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি। এই প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি কিছু সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকরা অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই ক্রমবর্ধমান সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং প্রতারণার ফাঁদ এড়িয়ে চলতে ব্যাংকটি বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণের জন্য গ্রাহকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের জন্য কখনোই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং বা ক্রেডিট কার্ডের পিন (PIN), গোপন পাসওয়ার্ড কিংবা মোবাইল ফোনে আসা ওটিপি (OTP) কোনো অবস্থাতেই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এমনকি ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়েও যদি কেউ এই তথ্যগুলো জানতে চায়, তবে তা প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কখনো এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য গ্রাহকের কাছে জানতে চায় না। এছাড়া ইমেইল, এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা যে কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা এবং ভেরিফাইড অ্যাপ স্টোরের বাইরে অজানা কোনো উৎস থেকে ফ্রি অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার মতো অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিজের আর্থিক তথ্য বা অর্থ ব্যবহার না করার পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।প্রতারক চক্র বর্তমানে অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন প্রভাবশালী সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের লোগো ও নাম ব্যবহার করে লাইসেন্সবিহীন অ্যাপের মাধ্যমে জামানতবিহীন স্বল্প সুদে অনলাইন ঋণ ও বড় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। এ ধরনের প্রস্তাবগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এসব ক্ষেত্রে যে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এছাড়া লটারি জেতা বা বড় অংকের পুরস্কারের প্রলোভন সম্বলিত বার্তাগুলোকে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য গ্রাহকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় অপরিচিত ব্যক্তির ছদ্মবেশে সুকৌশলে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিয়ে থাকে, যা থেকে বিরত থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সচেতনতাই হতে পারে এই প্রতারণা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। কোনো গ্রাহক যদি প্রতারণার শিকার হন কিংবা সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার পাশাপাশি নিকটস্থ থানার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা নিয়ে যে কোনো অভিযোগ বা জরুরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বর ‘১৬২৩৬’-এ যোগাযোগ করার জন্য গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করেছে। মূলত নিজের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং অন্যদের সচেতন করাই এখন এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার একমাত্র পথ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল