প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত কোরবানির পশু রেকর্ড সরবরাহের হাতছানি
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ততা নিয়ে এক স্বস্তির খবর দিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এবার এই উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পটিয়ায় এবার কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ১২০টি। সেই হিসাবে চাহিদা পূরণ করার পরও প্রায় ২ হাজার ৬১৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল ভাণ্ডারের মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৫টি গরু, ৩ হাজার ৮৫০টি মহিষ, ১৬ হাজার ১১০টি ছাগল এবং ৪ হাজার ৩৯০টি ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা এসব গবাদিপশু এখন বাজারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ এই প্রস্তুতির বিষয়ে জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তারা আগেভাগেই ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে পশু পালন, রোগ প্রতিরোধ ও নিরাপদ মোটাতাজাকরণ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রদান করা হয়েছে। ফলে এবার বাইরে থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না তারা। বাজারে ক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত ও রোগমুক্ত পশু কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ক্ষতিকর হরমোন বা অবৈধ ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খামারিদের মনে এখন বড় অস্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক। সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকার ভুক্তভোগী খামারি নূরুল আলমের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক বর্ণনা। তিনি জানান, গভীর রাতে মুখোশধারী ডাকাত দল তার গোয়ালঘরের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের চারটি ষাঁড় লুটে নেয়। যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাওয়ায় তিনি এবং তার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আরেক খামারি মোহাম্মদ সেলিম আক্ষেপ করে বলেন, চোর-ডাকাতের ভয়ে অনেকেই এখন তড়িঘড়ি করে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এই সংকটময় পরিস্থিতিতে খামারিদের আশ্বস্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ডেইরি খাত আমাদের অর্থনীতির একটি প্রাণশক্তি, তাই খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি খামারিদের নিজেদের নিরাপত্তা বাড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও এলাকাভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন। এদিকে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, পুলিশি টহল ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং চোরচক্র দমনে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে পটিয়া ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কপিলের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই ডাকাতির ঘটনাগুলোকে সাধারণ চুরি হিসেবে দেখানো হয়, যা অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। খামারিদের প্রাণের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার করে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে পশু সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল