প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
শাপলা চত্বরে কী ঘটেছিল? ভেতরের তথ্য দিতে রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো সেই আলোচিত ও বিতর্কিত অভিযানকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলায় এক অভাবনীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবার রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই তথ্যটি সামনে আসে আজ বুধবার (৬ মে), যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।শুনানি চলাকালীন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডলের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার তাঁর মক্কেলের পক্ষে জামিন প্রার্থনা করেন এবং আদালতকে অবহিত করেন যে, তাঁর মক্কেল এই আলোচিত মামলার প্রকৃত সত্য উন্মোচনে রাজসাক্ষী হতে আগ্রহী। তবে ট্রাইব্যুনাল এই মুহূর্তে জামিন আবেদনটি মঞ্জুর না করে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর তা নাকচ করে দেন। বর্তমানে আবদুল জলিল মণ্ডল এই মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে, কারণ রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি সেদিনের অভিযানের নেপথ্যের অনেক অপ্রকাশিত তথ্য তুলে ধরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, আবদুল জলিল মণ্ডল তাঁর কর্মজীবনে পুলিশ বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সেই বিশাল সমাবেশের সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রশাসনের এত উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্ত ওই দিনের ঘটনাবলির বিচারে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল