প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
তদন্তকারীদের এড়িয়ে সাবেক সেলমেটের হাতে চিরকুট, এপস্টেইন মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচিত ও বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই অর্থ লগ্নিকারীর কথিত একটি 'সুইসাইড নোট' বা আত্মহননের চিরকুট দীর্ঘ কয়েক বছর পর জনসমক্ষে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক স্থানীয় সময় গত বুধবার এই নথিটি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালে ম্যানহাটনের একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত জেলখানায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এপস্টেইনের শেষ সময়গুলোতে তার মনের অবস্থা কেমন ছিল, এই চিরকুটটি যেন তারই একটি ঝাপসা প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে।প্রকাশিত এই হাতে লেখা নোটটি মূলত হলুদ রঙের একটি লিগ্যাল প্যাডে লেখা। নথির তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন তার সেই শেষ বার্তায় লিখেছিলেন, পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘদিনের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তারা কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছুই পায়নি, যার ফলাফল হলো ১৫ বছর আগের পুরোনো সেই অভিযোগগুলো। চিরকুটে আরও লেখা ছিল, "তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়!!" এই শব্দগুলোর মাধ্যমে তিনি যে এক ধরনের অবজ্ঞা এবং চূড়ান্ত হতাশা প্রকাশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট বোঝা যায়।আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চিরকুটটি কোনো তদন্তকারী সংস্থা উদ্ধার করেনি; বরং এটি খুঁজে পেয়েছিলেন এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট এবং খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউইয়র্ক টাইমস' এই নোটটির অস্তিত্ব নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি বিচারক কেনেথ কারাসের নজরে আসে। তিনি রায় দেন যে, যেহেতু এটি একটি মামলার প্রেক্ষিতে জমা দেওয়া হয়েছে, তাই এটি একটি বিচার বিভাগীয় নথি এবং এটি দেখার অধিকার জনগণের রয়েছে। যদিও বিচারক এই নোটের সত্যতা বা এটি কার কার হাত ঘুরে আদালতে পৌঁছেছে সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেননি, তবে তিনি এটি গোপন রাখার কোনো আইনি কারণ খুঁজে পাননি।ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, এপস্টেইন ২০০৮ সালে প্রথমবার নাবালিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, যদিও তৎকালীন এক বিতর্কিত চুক্তির কারণে তিনি বড় সাজা থেকে বেঁচে যান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় পুনরায় যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কথিত এই নোটটি সম্ভবত সেই বছরের জুলাই মাসেই লেখা হয়েছিল, যখন তাকে প্রথমবার গলায় দাগসহ জেলের কক্ষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পর ১০ আগস্ট তিনি আবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং মারা যান। দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা এই চিরকুটটি এখন এপস্টেইন মামলার অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে, বিশেষ করে কেন ফেডারেল তদন্তকারীরা এত বছরেও এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটির হদিস পাননি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল