প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর’, দাবি ট্রাম্পের
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরাজমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ আনায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো কার্যকর রয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। যদিও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা ঠিক কার হাত ধরে হয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। উভয় দেশই তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘পাল্টা জবাব’ হিসেবে অভিহিত করছে।ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিনা উসকানিতে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং অপর একটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। শুধু সমুদ্রসীমাতেই নয়, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে বান্দার খামির, সিরিক এবং কেশম দ্বীপেও মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে বলে তেহরান অভিযোগ করেছে। এর জবাবে ইরানি বাহিনী দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি’ করার দাবি জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন দাবি পেশ করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ইরানি বাহিনী প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট নৌযান ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর ওপর হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনী এই হামলাকে ‘উসকানিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, তারা কেবল নিজেদের রক্ষায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘ইরান আজ আমাদের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করেছে।’ তবে এত কিছুর পরেও তিনি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার কথা স্বীকার করেননি। মজার ব্যাপার হলো, এই সংঘাতের মাত্র একদিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, তারা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।তেহরান ও তার আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে ‘শত্রুপক্ষের সঙ্গে সরাসরি গোলাগুলি’ বলে প্রচার করছে। তবে মার্কিন সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করেছে যে, তারা পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত করতে আগ্রহী নয়, কিন্তু নিজেদের সেনাসদস্য ও সম্পদ রক্ষায় তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও এক জটিল মোড় নিয়েছে।তথ্যসূত্র: বিবিসি (BBC)
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল