প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
ঘুষ কেলেঙ্কারিতে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
দুর্নীতি ও ঘুস কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার দায়ে চীনের সামরিক বাহিনীর দুই প্রভাবশালী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বিরল ও কঠোর সাজা দিয়েছে দেশটির আদালত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই জেনারেলকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীনের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী এ ধরনের সাজার অর্থ হলো, সাজাপ্রাপ্তরা যদি আগামী দুই বছর কারাগারে সুশৃঙ্খল আচরণ প্রদর্শন করেন, তবে তাদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হতে পারে। ফলে কার্যত তাদের বাকি জীবন কারাগারেই অতিবাহিত করতে হবে।দণ্ডিত এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার একজন হলেন জেনারেল ওয়েই ফেংহে এবং অন্যজন জেনারেল লি শাংফু। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, জেনারেল ওয়েইয়ের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঘুস নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে, জেনারেল লি শাংফুর অপরাধ আরও গুরুতর; তিনি নিজে ঘুস নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ঘুস প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতির চক্র বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ নিরাপত্তার খাতিরে প্রকাশ করেনি চীনা কর্তৃপক্ষ।চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী থেকে দুর্নীতি ও আনুগত্যহীনতা নির্মূল করার জন্য যে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, সেই প্রক্রিয়ায় এই দুই জেনারেলই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দণ্ডিত হওয়া সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা। জেনারেল ওয়েই ও লি শাংফুকে যখন প্রথম পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে শি জিনপিং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চীনের প্রায় ১০০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা তারা রহস্যজনকভাবে জনসমক্ষ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সাজা কেবল দুর্নীতির বিচার নয়, বরং চীনের সামরিক বাহিনীর ভেতরে শৃ্ঙ্খলা ও নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করার একটি কঠোর বার্তা। শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন, যেখানে ‘বাঘ ও মাছি’ উভয়কেই সমানভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই দুই জেনারেলের ক্ষেত্রে দেওয়া সাজা প্রমাণ করে যে, অপরাধ প্রমাণিত হলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না, তা তিনি যত বড় পদের অধিকারীই হোন না কেন। এই ঘটনায় চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক প্রশাসনে এক ধরনের আতঙ্ক ও সতর্কাবস্থা বিরাজ করছে।তথ্যসূত্র: সিএনএন (CNN) ও সিনহুয়া (Xinhua)
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল