প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের মহাপরিকল্পনা অব্যবহৃত জমিতে গড়া হচ্ছে বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় গৃহীত এই উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে থাকা অন্তত ৩.৫ একরের বেশি আয়তনের অখণ্ড ও নিষ্কণ্টক জমির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তলব করা হয়েছে। মূলত দেশের অব্যবহৃত ভূমিকে উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থাকে তাদের আওতাধীন পতিত জমির তথ্য ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো থেকে জমির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সংগৃহীত এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে কোন জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী, তা মূল্যায়ন করা হবে।উদ্যোগটির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেজা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রের সক্ষমতা ধরা হয়েছে ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম সংবলিত এই প্রকল্পে অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহায়তা প্রদান করবে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ২০২৬ সালের বিশেষ নীতিমালার আওতায় এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এক্ষেত্রে বেজা জমির মালিক হিসেবে এবং বিপিডিবি চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের যেসব জমি এখনই শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে না, সেগুলোকেই এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং সরকার তা কিনে নেবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। তার এই বার্তার পর পানিসম্পদ, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তাদের অব্যবহৃত জমির বিস্তারিত তথ্য পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল