প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হরমুজ প্রণালী ছাড়ল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার এক চরম সংঘাতময় রূপ ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট দাবি করেছে, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর একটি বৃহৎ পরিসরের সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি বাহিনীর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে টিকতে না পেরে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আইআরজিসি-এর নৌ কমান্ডার এক বিবৃতিতে জানান, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যন্ত “উসকানিমূলক” পদক্ষেপের জবাব দিতেই তারা এই পাল্টা আঘাত হেনেছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জাস্ক বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়ে পূর্বঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। এর কিছু সময় পরই মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে তারা অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একযোগে জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল শক্তিশালী ওয়ারহেড, যা সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। আইআরজিসি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে মার্কিন নৌবহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়েছে। এই তীব্র ও নিখুঁত আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে তিনটি ডেস্ট্রয়ার দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে সরে যায়।এই সামরিক অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসনের বিপরীতে এটি ছিল একটি তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। তিনি কড়া ভাষায় অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আইনবহির্ভূতভাবে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে অঞ্চলটিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলফাগারি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি পুনরায় কোনো ধরনের আগ্রাসন বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের চেষ্টা করে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পূর্বের চেয়েও কঠোর এবং শক্তিশালী জবাব দেবে।বর্তমানে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। ইরানপন্থি বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ।মূল উৎস: প্রেস টিভি (Press TV)
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল