প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
প্রতিরক্ষায় তুরস্কের বিস্ময়কর উদ্ভাবন!
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একের পর এক বিস্ময় উপহার দেওয়া তুরস্ক এবার বিশ্বমঞ্চে নিয়ে এলো তাদের এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী সমরকৌশল। ইস্তানবুলে চলমান আন্তর্জাতিক ‘সাহা এক্সপো’র প্রথম দিনেই দেশটি উন্মোচন করেছে তাদের প্রথম আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'ইয়িলদিরিমহান'। তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ শব্দের অর্থ বজ্র, আর ‘ইয়িলদিরিমহান’ মানে হলো বজ্রের শাসক। নামের মতোই এর ধ্বংসক্ষমতা এবং গতি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশায় তুরস্ক তাদের গৌরবময় ইতিহাস এবং আধুনিক জাতীয়তাবাদের এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির এক পাশে খোদাই করা হয়েছে অটোমান সাম্রাজ্যের কিংবদন্তি সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম, আর ওপরের অংশে শোভা পাচ্ছে আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের এই উদ্ভাবনটি ৯ মে পর্যন্ত প্রদর্শনীতে রাখা হবে, যা দেখার জন্য ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে।প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘ইয়িলদিরিমহান’ এক কথায় অবিশ্বাস্য। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানিয়েছেন, এটি দেশটির তৈরি প্রথম তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে হাইপারসনিক গতিবেগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ দ্রুত ছুটতে সক্ষম। এতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড এবং চারটি শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিন একে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অব্যর্থভাবে বয়ে নিয়ে যায়। যদিও এর পূর্ণাঙ্গ কারিগরি তথ্য এখনো সীমিত, তবে প্রদর্শনীতে থাকা তথ্য অনুযায়ী এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার।তুরস্কের এই অগ্রগতি হুট করে আসেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দেশটি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর নজর কেড়েছে। গত বছরের জুলাই মাসেই তারা ‘টাইফুন ব্লক ফোর’ নামক একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছিল, যার পাল্লা ছিল প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। এছাড়া ‘জাংক’ নামক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তারা দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করার সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তবে এবারের ‘ইয়িলদিরিমহান’ তুরস্ককে সরাসরি আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) রাখা দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে পৌঁছে দিল।সাধারণত আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয় এবং এগুলোতে একই সাথে একাধিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা থাকে। বর্তমানে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো গুটি কয়েক দেশের কাছে এই শক্তিশালী প্রযুক্তি রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানিতে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে, তবুও তুরস্কের এই সামরিক আস্ফালন প্রমাণ করে যে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই ‘বজ্রের শাসক’ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল