প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: পর্বতারোহীর মৃত্যু
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের হালমাহেরা দ্বীপ-এ অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে তিন পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক এবং একজন পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার টারনেট দ্বীপ-এর বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় এখনো অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে হঠাৎ করেই মাউন্ট ডুকোনোতে শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে বিশাল ছাই ও ধোঁয়ার মেঘ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর থেকেও শোনা যায়, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।উত্তর হালমাহেরা জেলার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, অগ্ন্যুৎপাতের সময় কয়েকজন পর্বতারোহী দ্রুত নিচে নেমে আসতে সক্ষম হলেও এখনও বেশ কয়েকজন পাহাড়ি এলাকায় আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধারণা করছেন, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঘন ছাইয়ের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান পেতে সময় লাগতে পারে।ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র আবদুল মুহারি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আগ্নেয়গিরির অব্যাহত গর্জনের কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারলেও এরপর আহত ও নিহতদের স্ট্রেচারে বহন করে নিচে নামাতে হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।সরকারি ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া সতর্ক করে বলেছেন, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে আশপাশের বসতিপূর্ণ এলাকা ও তোবেলো শহরে ব্যাপক ছাই পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, আগ্নেয় ধোঁয়া ও ছাই জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আকাশপথসহ পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।উল্লেখ্য, গত মাস থেকেই মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন আগেই ওই এলাকাকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল। তবুও কিছু পর্বতারোহী সেখানে প্রবেশ করায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল