প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা, নিহত ২০
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় একজন উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। একাধিক এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৫৯ জনে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের তোরা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই নারীসহ অন্তত চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পর বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন অনেকেই। এখনো নিখোঁজ এক কিশোরীর সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই দিনে ব্লাত শহর থেকে নিখোঁজ থাকা দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে লেবানন রেড ক্রস।এ ছাড়া হাসবায়া জেলায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন এক উদ্ধারকর্মী। নাবাতিয়েহ ও সিডনসহ দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী এখনো দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, নতুন করে কিছু অঞ্চলের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব হামলায় অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আয়োজিত ওই বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ, সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, আসন্ন বৈঠকে তারা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সীমান্ত অঞ্চলে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাধারণ মানুষ এখন স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল