প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
নবজাতককে হত্যা করে পুকুরে ফেললেন মা, ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
বগুড়ার সদর উপজেলায় নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারী ও তার বর্তমান স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।শনিবার (৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোছা. নিপা আক্তার (২৪) এবং তার বর্তমান স্বামী মো. দুলাল মিয়া (৩৮)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপা আক্তারের সঙ্গে বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক কলহের কারণে কয়েক মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের রমজান মাসে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার গভীর রাতে নিপা একটি নবজাতক সন্তানের জন্ম দেন। এরপর সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক জটিলতার আশঙ্কায় নবজাতকের গলায় ধারালো ব্লেড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে শিশুটির মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।শনিবার সকালে বিষয়টি ধীরে ধীরে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নারী ও তার বর্তমান স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম জানান, সকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে জানতে পারেন, ওই নারীর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। স্থানীয়দের ধারণা, আগের স্বামীর সন্তান হওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।এদিকে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এমন নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল