প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ নিহত ৩৯
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
লেবাননে আবারও তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। শনিবার (৯ মে) চালানো এই হামলার পর পুরো দক্ষিণ লেবাননে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক বিস্ফোরণে বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হলে শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ১৫ জন। আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।একই দিনে নাবাতিয়েহ এলাকাতেও হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে টানা তিনবার ড্রোন হামলা করা হয়। এতে এক সিরীয় নাগরিক নিহত হন এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার সময় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে।লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৫ জনে। প্রতিদিনই নতুন করে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশটিতে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে লেবাননের স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বাস্তবে বেসামরিক এলাকাগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাবও দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ফলে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে।গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও সীমান্তজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা।যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক এলাকা এখন জনশূন্য। গাজার মতো লেবাননের বিভিন্ন বসতিও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বেসামরিক এলাকায় ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং ভবিষ্যতে এসব ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হতে পারে।মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা গভীর হচ্ছে।সূত্র: Al Jazeera
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল