প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণে এগিয়ে এলো রাশিয়া
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের ভূখণ্ডে স্থানান্তর ও নিরাপদে সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। রাজধানী মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।পুতিনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এর আগেও ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ নিজেদের কাছে সরিয়ে নিয়েছিল রাশিয়া। সে সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরানের ইউরেনিয়াম কার্যক্রম সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল মস্কো। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই ইরানের ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান পরিবর্তন করে এবং দাবি তোলে, এই ইউরেনিয়াম কেবল মার্কিন ভূখণ্ডে স্থানান্তর করতে হবে। ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থানের পর তেহরানও পাল্টা আরও কড়া অবস্থান নেয় বলে জানান তিনি।রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মস্কো কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে।বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় রাশিয়া। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে মস্কোর সক্রিয় অবস্থান সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় রাশিয়ার কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জ্বালানি ও গবেষণামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা মস্কোর এই অবস্থানকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং ইরান ইস্যুতে ভবিষ্যতে কোন পথে এগোয় বৈশ্বিক কূটনীতি।সূত্র: Reuters
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল