প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সংকটে রেস্তোরাঁ ব্যবসা সরকারের কাছে ১১ দফা প্রস্তাব
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প বর্তমানে বহুমুখী সংকটে পড়ে টিকে থাকার লড়াই করছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এলপিজি গ্যাস সংকট, করপোরেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, উচ্চ ভ্যাট-ট্যাক্স এবং প্রশাসনিক হয়রানির কারণে এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির। এমন পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ মানুষের খাবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের চলমান সংকট ও করণীয় তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, দেশের অন্যতম বড় সেবাখাত হিসেবে রেস্তোরাঁ শিল্পে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতা, জ্বালানি সংকট ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ সংকট এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাবারের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক রেস্তোরাঁ খাবারের দাম বাড়াচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।তারা বলেন, শুধু জ্বালানি নয়, বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের নামেও রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিভিন্ন জটিল নিয়ম ও আকস্মিক অভিযান ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার পরও উদ্যোক্তাদের অযথা জরিমানা ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ট্রেড ইউনিয়নের নামে কিছু গোষ্ঠী রেস্তোরাঁ মালিকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে। এতে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নতুন উদ্যোক্তারা এই খাতে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে আগামী জাতীয় বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, বর্তমান ভ্যাট ও ট্যাক্স কাঠামো ব্যবসাবান্ধব নয়। ভ্যাটের হার কমিয়ে করের পরিধি বাড়ালে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও স্বস্তি পাবেন।রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সরকারের কাছে যেসব ১১ দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালু করা, ভ্যাট-ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, এলপিজি সংকট সমাধান এবং পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি, করপোরেট আগ্রাসন বন্ধ, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যু পুনরায় চালুর দাবিও জানানো হয়।তারা আরও দাবি করেন, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিলে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং খাবারের দাম কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণেরও আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে রেস্তোরাঁ খাতের বড় অবদান রয়েছে। তাই এই খাতকে শুধু ব্যবসা নয়, শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা দেওয়া জরুরি। অন্যথায় একদিকে যেমন বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যাবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল