প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
কিমকে হত্যা করলে ভয়াবহ পরিণতি, নিউক্লিয়ার বার্তা উত্তর কোরিয়ার
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
উত্তর কোরিয়া আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশটির সংবিধানে আনা এক নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিহত হলে কিংবা দেশের পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে কোনো ধরনের মানবিক নির্দেশনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু কোরীয় উপদ্বীপ নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই পিয়ংইয়ং এমন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিম জং উন মনে করছেন, বিশ্বশক্তিগুলোর টার্গেটে পরিণত হলে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে উত্তর কোরিয়াও।গত ২২ মার্চ পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’র অধিবেশনে এই সাংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাও তাদের সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অবহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি বৈরী শক্তির হামলায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে, তাহলে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে পারমাণবিক পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। অর্থাৎ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত দেওয়ার অবস্থায় না থাকলেও সামরিক বাহিনী স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া’ নীতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভুল সংকেত কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণেও বড় ধরনের পারমাণবিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এতে ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।এর আগেও উত্তর কোরিয়া তাদের সংবিধান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণ সম্পর্কিত সব ধারা বাদ দেয় এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রধান শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিম জং উন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন দুই কোরিয়া আর এক জাতি নয়; বরং তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দুটি পৃথক রাষ্ট্র। সম্প্রতি এক ভাষণে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ ও আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে বলেন, ওয়াশিংটনের চাপ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়া আরও কঠোর ও সক্রিয় কৌশল গ্রহণ করবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন নীতি ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে এবং পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বাড়িয়ে দেবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল