প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
শান্তি আলোচনা থমকে, তেলের দামে নতুন অস্থিরতা
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সর্বশেষ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাই মূলত বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে অনুষ্ঠানে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি “স্পষ্ট রেড লাইন” নির্ধারণ করেছে। তার দাবি, ইরান ওই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা করছে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর খবরও প্রকাশ পেয়েছে। এসব ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার বেশি। একইভাবে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে।আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫২ ডলার, যা সংঘাত শুরুর আগে ৩ ডলারেরও নিচে ছিল। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল