প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
বায়ুদূষণে বিশ্বতালিকার শীর্ষে ঢাকা দিল্লির অবস্থান দ্বিতীয়
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের খেসারত হিসেবে মেগাসিটি ঢাকা এখন আক্ষরিক অর্থেই এক শ্বাসরুদ্ধকর জনপদে পরিণত হয়েছে। সাধারণত মে মাসের এই সময়ে বর্ষার আগাম বার্তা ও বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর বায়ুমান কিছুটা উন্নত থাকার কথা থাকলেও, এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সোমবার সাতসকালেই আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের (IQAir) বৈশ্বিক তালিকায় দূষণের সব রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তকমা পেয়েছে ঢাকা। ১৯৫ স্কোর নিয়ে ঢাকার আকাশ এখন বিষাক্ত ধোঁয়াশা আর ধূলিকণায় আচ্ছন্ন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সোমবার সকালের এই তালিকায় ১৫৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এছাড়া ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় ১৫৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং চীনের চেংডু ১৩৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৩০ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকলেও ঢাকার তুলনায় এই শহরগুলোর বাতাসের মান তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো। মূলত দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটাগুলোর প্রভাবে ঢাকার বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, মে মাসে বায়ুদূষণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য এক অশনিসংকেত।বায়ুমানের সূচক বা একিউআই (AQI) অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা আদর্শ বাতাস হিসেবে গণ্য হয়। তবে ঢাকার বর্তমান স্কোর ১৯৫, যা দীর্ঘক্ষণ গ্রহণ করলে সুস্থ মানুষেরও শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসের নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও ঢাকার বর্তমান অবস্থা তার থেকেও অনেক বেশি ভয়াবহ। সাধারণত স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, আর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। সূচক ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা যেকোনো নগরের বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাতাসের মান এমন প্রতিকূল থাকলে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের বাইরে বের না হওয়াই শ্রেয়। দীর্ঘ সময় এই দূষিত বাতাসে অবস্থান করলে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এবং অ্যাজমার মতো সমস্যা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যাদের বাড়ির বাইরে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ও টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ঢাকা ভবিষ্যতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল