প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য অপরাধ দমনে যাদের সহায়তা চাওয়া হয় তারাই নেপথ্যের হোতা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা। সম্প্রতি ওই এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, জননিরাপত্তা রক্ষায় যাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রেই তদন্তে দেখা যাচ্ছে তারাই অপরাধ জগতের মূল হোতা। পুলিশের এই কর্মকর্তার এমন সাহসী বক্তব্য এখন টক অব দ্য টাউন; কারণ এটি সমাজের তথাকথিত ‘ভদ্র’ মুখোশধারী গডফাদারদের আসল রূপ উন্মোচন করে দিয়েছে।এডিসি জুয়েল রানা তার বক্তব্যে অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, যখনই কোনো এলাকায় মাদক, ছিনতাই বা কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব দমানোর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় ‘সম্মানিত’ ব্যক্তিদের ফোন দেওয়া হয়, পরবর্তী তদন্তে দেখা যায় সেই সব ব্যক্তিদের নামই গডফাদার হিসেবে তালিকায় উঠে আসছে। অর্থাৎ, যাদের সমাজে শক্ত অবস্থান আছে, পদ-পদবি আছে এবং যারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে থাকেন, পর্দার আড়ালে তারাই মাদক ব্যবসা এবং অপরাধী চক্রগুলো পরিচালনা করছেন। এই গডফাদাররা কৌশলে নিজেদের ইমেজ পরিষ্কার রেখে নিচুতলার অপরাধীদের দিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে।সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্যটি হলো, এই স্থানীয় প্রভাবশালীরা এলাকার আধিপত্য বিস্তার করতে কুখ্যাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনছে। এর পেছনে একটি বড় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নেশায় জনগণের সমর্থন পাওয়ার চেয়ে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা আস্থার চেয়ে অস্ত্রধারী ও পেশিশক্তির ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার এই প্রবণতা মোহাম্মদপুরবাসীর নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বদ্ধপরিকর, তারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এডিসি জুয়েল রানা। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের নাম ও পদবি ধরে তৈরি করা সেই তালিকার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে ওই তালিকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরার জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আশ্রয়দাতা বা গডফাদার যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে মোহাম্মদপুরে শান্তি ফেরানোর ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল