প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এআই ও ইরান।
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্ব রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ। ইরান সংকট, তাইওয়ান ইস্যু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে বৈঠকটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের নানা জটিল বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এবারের চীন সফর ২০১৭ সালের পর প্রথম। বুধবার (১৩ মে) তার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং পরদিন থেকেই আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে।ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নতুন করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে কিছু যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। এর মধ্যে ‘বোর্ড অব ট্রেড’ ও ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি কাঠামো গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।এছাড়া চীন বড় আকারে মার্কিন কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে কয়েক বছর ধরে চলা বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি ও বিরল খনিজ সরবরাহ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বর্তমানে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও সেই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে।অন্যদিকে, ইরান ইস্যু এবার বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটি এখনও ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের একটি। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, সংঘাত কমাতে এবং নতুন সমঝোতার পথে আনতে তেহরানের ওপর চীন যেন কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করবে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে প্রযুক্তি, অস্ত্র সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে।তাইওয়ান প্রশ্নেও দুই দেশের অবস্থান আগের মতোই বিপরীতমুখী। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন দুই দেশের মধ্যে এআই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। যদিও এই কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সীমিতকরণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এখনো সে বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীন ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে যে আপাতত তারা এ ধরনের আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত নয়।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এবারের বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যেকোনো সমঝোতা বা দ্বন্দ্বের সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর।সূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল