প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
৯ মাসে রেমিট্যান্সে ২০ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতিতে ইতিবাচক ধারা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২২৬ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে হিসাব করলে এই রিজার্ভের প্রকৃত পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই মজুত একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত আয় বা রেমিট্যান্স। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাসীরা বৈধ পথে মোট ৩০ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত সুখবর।প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি মে মাসেও অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১ মে থেকে ৯ মে—এই মাত্র ৯ দিনেই দেশে ১ দশমিক ০২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের মে মাসের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে মাসভিত্তিক হিসেবেও প্রবৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে মে মাসের ৭ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত মাত্র তিন দিনেই দেশে এসেছে ২৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ এই বৈদেশিক মুদ্রার আগমন দেশের আর্থিক খাতকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের পেছনে বেশ কিছু কার্যকরী কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক প্রণোদনা প্রবাসীদের উৎসাহিত করেছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ প্রবাসীরা এখন অনেক সহজে ও নিরাপদে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন। একই সাথে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়া এবং হুন্ডির মতো অবৈধ পথ পরিহার করার মানসিকতা এই বিশাল প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে আবিষ্ট হয়েছে। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল