প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন: যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্র—মধ্যস্থতায় পাকিস্তানকে চাপের অভিযোগ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার পারদ নামিয়ে আনতে শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কাকুতি-মিনতি’ করার দাবি করলেও, পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। খোদ ওয়াশিংটনই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার রোধে এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে বলে উঠে এসেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সরাসরি হস্তক্ষেপে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করেছিল, একটি মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং পুরো সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে তেহরান তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।উল্লেখ্য যে, অতীতে ওমান, কাতার বা কুয়েত এই ধরণের মধ্যস্থতা করলেও বর্তমানে ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরকে বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত জেনারেল মুনিরের প্রচেষ্টাই সফলতার মুখ দেখে।গত ২১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির ‘পুরো সভ্যতা’ মুছে ফেলার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া পাঁচটি সূত্রের তথ্যমতে, পর্দার আড়ালে ট্রাম্প মূলত ইরানি সরকারের স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামে শঙ্কিত ছিলেন। এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তার মাধ্যমে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে জেনারেল মুনিরের আলোচনার পর শেহবাজ শরিফ প্রস্তাবটি পোস্ট করেন। তবে পোস্টের শুরুতে ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্স বার্তা শিরোনামটি অসাবধানতাবশত যুক্ত থাকায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই বার্তার খসড়া মূলত অন্য কোথাও (সম্ভবত ওয়াশিংটন) তৈরি করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হলেও নেটিজেনদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে এটি যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।লেবানন ইস্যুতে ভুল বোঝাবুঝি এবং যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হওয়ায় এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে আপাতত একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত মধ্যস্থতাকারীদের বাইরে গিয়ে পাকিস্তানের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই বিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল