প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
গোপন অভিযানে ইরানে সৌদির হামলার অভিযোগ!
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সৌদি আরব প্রথমবারের মতো সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে অত্যন্ত গোপনে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চের শেষভাগে এই গোপন হামলাগুলো চালানো হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে উপর্যুপরি হামলার প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের সীমানার ভেতরে ঢুকে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালাল, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে একাধিক হামলা চালায়। সেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও নানাভাবে আক্রান্ত হয়। এর জবাবেই রিয়াদ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই হামলার পরপরই সৌদি আরব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ভবিষ্যতে যদি সৌদি আরবের স্বার্থে কোনো আঘাত আসে, তবে তার চেয়েও ভয়াবহ ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সরাসরি যোগাযোগ ও হুঁশিয়ারি আপাতত দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে এবং উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে সহায়তা করেছে।সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে একই ধরনের গোপন সামরিক তৎপরতা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন বলছে, এপ্রিলের শুরুর দিকে আমিরাত পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি তেল শোধনাগারে গোপন বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় তেল শোধনাগারটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং এর জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়া আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরান ওই সময় তাদের একটি শোধনাগার শত্রুদেশের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিল। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে চালকহীন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।এই পাল্টাপাল্টি হামলা কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন শিল্প, বিমান চলাচল ব্যবস্থা এবং আবাসন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘকাল ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধের ওপর নির্ভর করলেও, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা তাদের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্য কমানোর জন্য এখন প্রতিবেশী দেশগুলো সরাসরি শক্তি প্রয়োগের পথে হাঁটছে, যা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।মূল উৎস: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল