প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
মার্কিনিদের আর্থিক দুর্দশা নিয়ে মাথাব্যথা নেই: ট্রাম্প
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের আবহে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও ইরান ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থান থেকে এক চুলও সরছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ আমেরিকানদের আর্থিক টানাপোড়েনের চেয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত রাখাকেই বর্তমানে নিজের প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি চীন সফরের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তার এই মনোভাব ব্যক্ত করেন।প্রেসিডেন্ট সরাসরি জানান যে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট তার এই কঠোর সিদ্ধান্তে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। তার মতে, যখন ইরানের প্রসঙ্গ আসে, তখন একটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় আর তা হলো দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন রোধ করা। তিনি খোলামেলাভাবেই স্বীকার করেন যে, এই মুহূর্তে আমেরিকানদের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির চেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়টিই তার কাছে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ট্রাম্পের এমন সরাসরি ও কঠোর বক্তব্য খোদ তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।সামনেই নভেম্বর মাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ার পাশাপাশি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান দলীয় অনেক নেতা আশঙ্কা করছেন যে, দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া ভোটাররা নির্বাচনের ব্যালটে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন 'অর্থনীতি উপেক্ষা করা' মন্তব্য তাদের জন্য নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।তবে প্রেসিডেন্টের এই অনড় অবস্থানের সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, একজন প্রেসিডেন্টের প্রধান ও সর্বোচ্চ দায়িত্ব হলো নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরান যদি একবার পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুসারে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যদিও ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কোনো মরণাস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী নয়।সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান কৌশলটি হলো স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক কষ্ট মেনে নিয়ে হলেও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য যে পরিমাণ ঝুঁকি তৈরি করবে, তার তুলনায় বর্তমানের এই অর্থনৈতিক সংকট অনেক ছোট বিষয়। দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং আসন্ন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব ওয়াশিংটন তথা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।সূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল