প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি: বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সভায় অংশীজনরা আগামী বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তাবের পরিবর্তে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আলোচনা হয়।এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সরকারের এমন ভাবনায় সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া দেশের বিভিন্ন জেলার অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা স্পষ্টভাবেই জানান যে, হুট করে পরীক্ষার সময় কয়েক মাস এগিয়ে আনা হলে পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এসএসসি পরীক্ষা আগামী বছরের জানুয়ারির শেষভাগে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুনে নেওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।বৈঠক শেষে আয়োজিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রোজা শুরুর আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এপ্রিল ও জুনের কথা আলোচনায় আসলেও শেষ পর্যন্ত জুনেই এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।শিক্ষামন্ত্রী এ সময় একাডেমিক ক্যালেন্ডার শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষাবর্ষের সকল কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা। তবে গতানুগতিক অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে এবং সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমের সমন্বয় না করে হঠাৎ করে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সে কারণেই ধীরে ধীরে এই সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে ঝরে পড়া সময় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ১৬ বছরে এসএসসি এবং ১৮ বছরে এইচএসসি শেষ করার কথা থাকলেও বর্তমানে নানা কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে। ২০ লাখ শিক্ষার্থী যদি তাদের জীবন থেকে একটি করে বছর হারায়, তবে জাতির সামগ্রিক জীবন থেকে বিপুল পরিমাণ সময় নষ্ট হয়ে যায়। এই সেশন জট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ করে দিতেই মন্ত্রণালয় সেশনগুলোকে পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট ছকে নিয়ে আসার কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল