প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সামরিক আঁতাত রুখতে ভূমধ্যসাগরে বড় ধরনের গোপন তৎপরতার ইঙ্গিত
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
রুশ পণ্যবাহী জাহাজ ‘উরসা মেজর’ ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্পেনের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ভূমধ্যসাগরের তলদেশে তলিয়ে যাওয়া এই জাহাজটি নিয়ে রহস্যের জাল দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, জাহাজটিতে করে সাবমেরিনে ব্যবহারযোগ্য দুটি পারমাণবিক চুল্লি গোপনে উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হচ্ছিল। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঘটা এই দুর্ঘটনায় জাহাজটি সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার আগে সেখানে ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা এই ঘটনাকে সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত গোপন সামরিক অভিযান হিসেবে ইঙ্গিত দিচ্ছে।তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর ঠিক দুই মাস পরেই জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল। গত ১১ ডিসেম্বর সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের বন্দর ভ্লাদিভোস্টকের উদ্দেশে রওনা দিলেও এর প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজের নথিপত্রে মালামাল হিসেবে সাধারণ যন্ত্রাংশের কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে মূলত রাশিয়ার ‘ডেল্টা ফোর’ শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিনে ব্যবহৃত ‘ভিএম-৪এসজি’ মডেলের চুল্লির যন্ত্রাংশ ছিল। জাহাজটির রুশ ক্যাপ্টেন স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বীকার করেছেন যে ওগুলো পারমাণবিক চুল্লির সরঞ্জাম ছিল, যদিও সেগুলোতে জ্বালানি ভরা ছিল কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।পুরো ঘটনাটি ঘিরে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ পরমাণু শনাক্তকারী বিমান ‘স্নিফার’ গত এক বছরে দুবার দুর্ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে, যা সেখানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতির আশঙ্কাকে জোরালো করে। এছাড়া জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কয়েক দিন পর একটি রুশ গুপ্তচর জাহাজ ধ্বংসাবশেষের স্থানে অবস্থান নেয় এবং সেখানে আরও চারটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা সংবেদনশীল প্রমাণগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতেই রাশিয়া এই পদক্ষেপ নিয়েছে। স্পেনের তদন্ত প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, জাহাজটির খোলে হওয়া বিশেষ ধরনের ছিদ্রটি কোনো অত্যাধুনিক টর্পেডো বা বিশেষ মাইনের আঘাতে হয়ে থাকতে পারে।এই ঘটনাটি যখন ঘটেছিল, তখন ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ এক চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের হাতে পৌঁছানো ঠেকাতে কোনো পশ্চিমা সামরিক শক্তি এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং গোপন অভিযান চালিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। যদিও স্পেন সরকার ও মার্কিন পেন্টাগন এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ, তবুও ভূমধ্যসাগরের তলদেশে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও একে ঘিরে সামরিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে এটি নিছক কোনো জাহাজের সলিল সমাধি ছিল না। বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভূ-রাজনীতির এক বিশাল ও বিপজ্জনক খেলা, যার বিস্তারিত বিবরণ আজও অস্পষ্ট।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল