প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের পাহাড়; ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের হিসাব প্রকাশ
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিনিদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ এখন প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্ট হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই ব্যয়ের যে হিসাব দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান অঙ্কটি তার চেয়ে অন্তত ৪০০ কোটি ডলার বেশি। জে হার্স্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা কর্মীদের পরিচালনা খরচ এবং সামরিক সরঞ্জামের মেরামত ও প্রতিস্থাপনের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।তবে এই বিশাল ব্যয়ের অংকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ প্রতিস্থাপন এবং ঘাঁটিগুলো সংস্কারের ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচের পরিমাণ অনায়াসেই ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একজন যুদ্ধ বাজেট বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতিতে মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে অন্তত এক লাখ কোটি ডলার খসতে পারে। এদিকে রণক্ষেত্রের বাইরেও সাধারণ মার্কিনিদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরানের হামলার কারণে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি ২০২৭ সালের আগে সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানা গেছে।যুদ্ধের এই উত্তাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারও যোগ দিতে পারে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা মিত্র সকল দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানে গোপন পাল্টা হামলার খবরও চাউর হয়েছে। যদিও রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব হামলার কথা অস্বীকার করেছে, তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নিজেদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু অপ্রকাশিত অভিযান চালিয়েছে। এই বহুমুখী সংঘাত ও জোটবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ও জটিল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল