প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
গোপন সফরে আবুধাবিতে নেতানিয়াহু: আমিরাতকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিল ইরান
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে এই গোপন সফর নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপনে আবুধাবি সফর করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও ইরান বিষয়টিকে দেখছে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুদ্ধের এমন সংকটময় মুহূর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের এই গোপন আঁতাত কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই সফরের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর এই সফরের খবর তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত এবং তারা নিয়মিতভাবে বিষয়টি দেশের নীতিনির্ধারকদের অবহিত করে আসছিল। ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে এমন শত্রুতাকে তিনি একটি 'বোকার খেলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরাঘচির মতে, এই ধরনের গোপন বোঝাপড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান তার শত্রুদের এবং তাদের সহযোগীদের বিচার করতে দ্বিধা করবে না।অন্যদিকে, আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ সাজানো গল্প হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কথিত এই সফরের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। তাদের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এখানে কোনো কিছু লুকিয়ে করার প্রয়োজন নেই এবং কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় না। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের পাশাপাশি আমিরাতও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে সই করেছিল।বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতকে সরাসরি হুমকির মুখে রাখা হয়েছে। তেহরানের বিশ্বাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। যুদ্ধের সময় আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইরানের হামলার ঘটনা সেই উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর এই সফরের খবরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিধর দেশ ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল