প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মোড়: ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চীন সফর
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিনিধিদল রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা অন্তর্ভুক্ত আছেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প তার এই সফরসঙ্গীদের ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেন এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।চীনা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন যে, জিনপিংয়ের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তিনি এই আলোচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো যুক্তরাষ্ট্রই এই শীর্ষ বৈঠকটি নিয়ে গভীর আলোচনা ও কৌতূহল প্রকাশ করছে বলে তিনি জানান। জিনপিংকে ব্যক্তিগতভাবে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, এমন একজন ব্যক্তিত্বের পাশে থাকতে পারা এবং তার বন্ধুত্ব পাওয়া অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈরিতা কাটিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে তিনি বেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেন।এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেইজিং পৌঁছালে তাকে নজিরবিহীন আড়ম্বরে স্বাগত জানানো হয়। বিমানবন্দরে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এটিই প্রথম বেইজিং সফর, যা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে চীনের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পাশে নির্মিত এই ভবনটি চীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত, যেখানে কেবল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদেরই আপ্যায়ন করা হয়।ট্রাম্প যখন এই ঐতিহাসিক ভবনে পৌঁছান, তখন তাকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাজকীয় সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২১ বার তোপধ্বনি আকাশ প্রকম্পিত করে। লাল ও সোনালি রঙের সুসজ্জিত একটি বিশেষ মঞ্চে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্যালুট জানিয়ে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এই বর্ণিল ও আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল