প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
হাভানাজুড়ে গণবিক্ষোভ, চাপের মুখে কিউবা সরকার
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কবলে পড়ে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় জ্বালানি সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে রাজধানী হাভানাসহ পুরো দেশ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই অসহনীয় লোডশেডিং এবং অভাবের তাড়নায় বুধবার সন্ধ্যায় হাভানা জুড়ে ব্যাপক জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শহরের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং আবর্জনা স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত জানুয়ারি মাসে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল হাভানায় এক রাতের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিবাদী জমায়েত। যদিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ।এই অস্থিরতার ঠিক একদিন আগেই কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশে বর্তমানে কোনো ডিজেল বা জ্বালানি তেলের মজুদ অবশিষ্ট নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এখন পুরোপুরি পতনের মুখে এবং দেশীয় অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে কোনোমতে ব্যবস্থাটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে হাভানার অনেক এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং খাদ্য সংরক্ষণ ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলেও গ্রিডের অস্থিতিশীলতার কারণে এর সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাচ্ছে না। মার্কিন অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন এবং পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি আমদানির আলোচনাগুলোও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। অধিকন্তু, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম এবং জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে, যা কিউবার জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র এবং তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলাও বর্তমানে জ্বালানি পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনের কড়া নির্দেশনার ভয় কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিগত কয়েক মাসের মধ্যে কেবল একটি রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার কিউবায় অপরিশোধিত তেল নিয়ে এসেছিল, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষের এই দেশটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশনের মতো মৌলিক জনসেবাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘও মার্কিন এই জ্বালানি অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির মতে, এই অবরোধ কিউবার সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর বৈশ্বিক সংকটের আবর্তে পড়ে সাধারণ কিউবানদের অন্ধকার রাতগুলো যেন আরও দীর্ঘ হচ্ছে।মূল তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল