প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
স্থানীয় ভোটের সম্ভাব্য সময় প্রকাশ করল ইসি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন এই কাজটিকে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সেই লক্ষ্যেই পূর্ণাঙ্গ একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রান্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে।দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন—এই সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে যে, সারা দেশে ধাপে ধাপে এই পর্যায়ের নির্বাচনগুলো শেষ করতে সাধারণত দশ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশন এখন সব ধরনের মৌসুমি বাস্তবতা এবং ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে একটি সমন্বিত সময়সূচি প্রণয়নের কাজ করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটের মতো বিষয়গুলো পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আর্থিক সংকট তৈরি না হয়।নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে বেশ কিছু আইনি সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংস্কার কাজগুলো শেষ করতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন স্তর থেকে নির্বাচনের যাত্রা শুরু হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনারের মতে, সিটি করপোরেশন নাকি তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে, সেই সিদ্ধান্ত কমিশন সব দিক বিবেচনা করে সময়মতো জানিয়ে দেবে।একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়। অর্থাৎ কোনো দলীয় প্রতীক বা রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে যে, এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে যোগ্য ও সাধারণ মানুষের পছন্দের প্রতিনিধিরা উঠে আসার সুযোগ পাবেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মানদণ্ড বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে কমিশন সব ধরনের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর আস্থা রেখে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল